লন্ডন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – একেবারেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিল ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ড ১৪৬ রানে পরাজিত করল পূর্ণ সদস্য একটি দলকে—টি২০ ইতিহাসে এক অভাবনীয় রেকর্ড!
ফিল সল্ট মাত্র ৬০ বলে অপরাজিত ১৪১ রান করে গড়লেন ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টি২০আই ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ড। পাশাপাশি অধিনায়ক জস বাটলারও ঝড় তোলেন—৩০ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। পুরো ২০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৩০৪ রান মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে—যা কোনও পূর্ণ আইসিসি সদস্য দেশের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলগত স্কোর।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মূল ভিত্তি ছিল পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক মনোভাব। প্রথম ৬ ওভারে ১০০ রান এবং ১০ ওভারে ১৬৬-১—যা রেকর্ড গড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারেই আত্মসমর্পণ করে। মাত্র ১৬.১ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৫৮ রানে। এই বিশাল ব্যবধানের হারে দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজমেন্ট স্বীকার করে যে তাদের বোলিং পরিকল্পনা ছিল ভুল এবং কৌশলগত দিক থেকে তারা পিছিয়ে পড়েছিল।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ ছিল একেবারেই ভিন্ন রূপের। কার্ডিফে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে আসে ৫ ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ৭.৫ ওভারে তোলে ৯৭/৫। ডি/এল নিয়মে ইংল্যান্ড লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি—১৪ রানে হেরে যায় তারা। সেই ম্যাচে বল হাতে চমক দেখান মার্কো জানসেন।
তবে সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে মাঠেই খেলা শুরু হয়নি। নটিংহ্যামে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হয়। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
এই সিরিজ শুধু রেকর্ড বা বিনোদনের নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড ঘোষণা করেছে, কেন উইলিয়ামসন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ‘ক্যাজুয়াল চুক্তি’তে সই করেছেন, যা নিশ্চিত করে যে তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে খেলবেন। ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, লকি ফার্গুসন এবং টিম সিফার্টও একই চুক্তিতে সই করেছেন, যদিও উইলিয়ামসন ছাড়া বাকিরা আসন্ন হোম সিরিজের জন্যও উপলব্ধ থাকবেন।
এদিকে, এশিয়া কাপে নজর কাড়ে ভারত। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম রান তাড়ায় পরাজিত করে তারা। অভিষেক শর্মা ও শুভমন গিলের ব্যাটে ছুটে চলে ভারতীয় ইনিংস। এই ম্যাচে রোহিত শর্মার পুরনো রেকর্ড ভেঙে যায়।
ইংল্যান্ডের এই আক্রমণাত্মক ও রেকর্ডবহুল ব্যাটিং শুধু স্মরণীয় নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিপক্ষদের জন্য কৌশল পুনর্বিবেচনার বার্তা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আর নিউজিল্যান্ডের 契約 সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক বনাম ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি দলকেই স্কোয়াড ব্যবস্থাপনা, ম্যাচ পরিকল্পনা এবং বৈচিত্র্যময় কন্ডিশনে অভিযোজনে মনোযোগ দিতে হবে। ইংল্যান্ড ছুটছে রেকর্ড ভেঙে; ভারত দেখাচ্ছে গভীরতা; দক্ষিণ আফ্রিকা খুঁজছে উত্তর। সামনের সিরিজগুলো—ইংল্যান্ড বনাম আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের হোম সিরিজ, এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই—নতুন নাটক, ট্যাকটিকাল টুইস্ট এবং ইতিহাস রচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।




